পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ? জানুন

পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ? জানুন

জানুয়ারী 13, 2026 - 02:13
 0  3
পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ? জানুন

এখনকার দিনে পাবলিক ওয়াইফাই যেন নিত্যসঙ্গী। হোটেল, অফিস, শপিংমল, বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমানবন্দর—যেখানেই যান, ইন্টারনেট সংযোগ হিসেবে ফ্রি ওয়াইফাই প্রায় নিশ্চিত। অনেক জায়গায় তো মোবাইল ডাটা ব্যবহার না করেই প্রয়োজনীয় অনলাইন কাজ সেরে নেওয়া যায়।

কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি এই পাবলিক বা ওপেন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে, যেগুলো অনেকেই জানেন না বা গুরুত্ব দেন না।

কেন পাবলিক ওয়াইফাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?

প্রযুক্তিবিদদের মতে, যেসব ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে এনক্রিপশন থাকে না, সেসব নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট ট্রাফিক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) চাইলে মনিটর করতে পারে। অর্থাৎ ওই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ডিভাইস কী ধরনের অনলাইন কার্যক্রম করছে, তার একটি লগ রেকর্ড তৈরি হওয়া সম্ভব।

এর মানে এই নয় যে, আইএসপি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব সময় এসব তথ্য দেখেই থাকে, তবে প্রযুক্তিগতভাবে সেটি করা সম্ভব—এটিই মূল কথা। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অফিস বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কাজের বাইরে অতিরিক্ত বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিং এড়িয়ে চলা ভালো।

বিশেষ করে বিমানবন্দর বা অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্বাভাবিক ব্রাউজিং আচরণ নজরদারির আওতায় আসতে পারে। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এমন হয় না, তবে সম্ভাবনাটি থেকেই যায়।

সহজভাবে বললে, ওপেন বা পাবলিক ওয়াইফাইয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার সব সময় নিরাপদ নয়।

ওপেন ওয়াইফাই কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

পাবলিক বা ওপেন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে প্রাইভেট নেটওয়ার্কের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয় মূলত একটি কারণে। সেটি হলো, এগুলোতে সাধারণত কোনো পাসওয়ার্ড সুরক্ষা থাকে না এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী এনক্রিপশনও অনুপস্থিত থাকে।

এই সুযোগে হ্যাকাররা সহজেই ওপেন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ডাটা হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এমনকি ক্রেডিট কার্ড নম্বর, বিভিন্ন অনলাইন সেবার পাসওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মালিক চাইলে দেখতে পারেন, আপনি কোন ওয়েবসাইটে ঢুকছেন এবং কী ধরনের ডাটা ইন্টারনেটে পাঠাচ্ছেন বা গ্রহণ করছেন।

এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভিপিএন ছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা নিরাপদ নাও হতে পারে।

নিরাপদ থাকতে কী করবেন?

অনলাইনে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব সময়ই জরুরি। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রথমত, পাবলিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত অবস্থায় সংবেদনশীল তথ্য—যেমন ব্যাংকিং, কার্ডের তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন এড়িয়ে চলাই ভালো। যদিও ‘এইচটিটিপিএস’ ওয়েবসাইটগুলো এনক্রিপশন ব্যবহার করে, তবু আপনি কোন পেজে গেছেন বা কোন অ্যাপ ব্যবহার করেছেন, এই তথ্য জানা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া ডিভাইসে ফাইল শেয়ারিং অপশন বন্ধ রাখা উচিত, যাতে আপনার ব্যক্তিগত ফাইল বা ফোল্ডার একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইসের সঙ্গে শেয়ার না হয়ে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন চালু রাখা। ভিপিএন অনলাইন ব্রাউজিংয়ে অতিরিক্ত এনক্রিপশন যোগ করে। এতে নেটওয়ার্কের মালিক বুঝতে পারেন যে আপনার ডিভাইস সংযুক্ত আছে, কিন্তু আদান-প্রদান হওয়া ডাটা এনক্রিপ্টেড থাকায় সেটি দেখা বা বোঝা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

পছন্দ করুন পছন্দ করুন 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
গোস্বামী গোস্বামী 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
বাহ! বাহ! 0
Md. Firoj Uddin As a passionate news reporter, I am fueled by an insatiable curiosity and an unwavering commitment to truth. With a keen eye for detail and a relentless pursuit of stories, I strive to deliver timely and accurate information that empowers and engages readers.