‘হত্যাচেষ্টার’ শিকারদের খোঁজ মেলেনি, হাসিনা-জয়ের অব্যাহতি চায় পিবিআই

‘হত্যাচেষ্টার’ শিকারদের খোঁজ মেলেনি, হাসিনা-জয়ের অব্যাহতি চায় পিবিআই

জানুয়ারী 13, 2026 - 00:33
 0  7
‘হত্যাচেষ্টার’ শিকারদের খোঁজ মেলেনি, হাসিনা-জয়ের অব্যাহতি চায় পিবিআই

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, সম্প্রতি আদালতে ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ অগাস্ট ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি-২৭ নম্বরে আহত হন সাহেদ আলী। সে সময় ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের ভাই দাবি করে শরীফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। থানা-পুলিশ মামলার তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান ভূঞাঁ। তথ্যগত ভুল উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে গেজেট হয়েছে। এ মামলায় যেসব আহতের কথা বলা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পাওয়া যায়নি। অবশ্য তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পরবর্তী সময়ে আহতদের তথ্য পাওয়া যায়, পরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

এজাহারে সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার, সাম্মি আক্তার আহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এ ধরনের কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংক্রান্তে তথ্য দেওয়ার জন্য হাজারীবাগ বাদী শরীফের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামে কাউকে চেনেন না এবং সেখানে থাকেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বের করেন, বাদীর নাম শরিফুল ইসলাম। লক্ষ্মীপুর সদরের ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে তিনি।

সেখানে খবর নিলে কেউ তাকে চিনতে পারেননি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কখনো খোলা, কখনো বন্ধ থাকে। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বেশ কয়েক দিন অপেক্ষার পর শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগীকে হাজির বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করেননি তিনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য এজাহারেও উল্লেখ করা হয়নি। মামলার সাক্ষীদেরও পাওয়া যায়নি।

আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

পছন্দ করুন পছন্দ করুন 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
গোস্বামী গোস্বামী 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
বাহ! বাহ! 0
Md. Firoj Uddin As a passionate news reporter, I am fueled by an insatiable curiosity and an unwavering commitment to truth. With a keen eye for detail and a relentless pursuit of stories, I strive to deliver timely and accurate information that empowers and engages readers.