ভূমধ্যসাগরে ‘ভাসমান ঘাঁটি’ ইস্যুতে ইরান-ইসরায়েলের মুখোমুখি
যুদ্ধ
ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’ আজ এক নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, ইরান ভূমধ্যসাগরে একটি ভাসমান গোপন নৌঘাঁটি স্থাপন করেছে। এটি একটি পরিবর্তিত কার্গো জাহাজ, যার নাম ‘বেহশাদ’। জাহাজটি লেবাননের উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে ইরান ইসরায়েলবিরোধী ড্রোন ও সামুদ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ট বলেন, “এটি একটি ‘ফ্লোটিং টেরর বেস’, যা ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি।”
ইসরায়েলের গোয়েন্দা অনুসারে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে তিন সপ্তাহ আগে রওনা হয় এবং সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছে। জাহাজটিতে ১২টি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ও ৮টি নূর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইসরায়েলি নৌবাহিনী ও সাইবার কমান্ড যৌথ অভিযানে জাহাজটির কমিউনিকেশন সিস্টেম হ্যাক করে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ডের বন্দর আব্বাসের তেল টার্মিনালের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অকার্যকর করে দেয়। ইসরায়েলের সাইবার আক্রমণের ফলে বন্দর আব্বাস থেকে তেল রফতানি ১৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকে এবং পরে স্বাভাবিক হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি এই অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল তার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঢাকতে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।” ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার হোসেইন সালামি এক গোপনে বৈঠকে বলেছেন, তারা যে কোনো সাইবার হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মেহেদি রহমানি (তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, “এটি ছায়াযুদ্ধের নতুন অধ্যায়। ইসরায়েল চায় ইরানের সামুদ্রিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নজরে আনতে, আর ইরান চায় প্রত্যক্ষ সংঘাত এড়িয়ে অসামরিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে।”
লেবানন সরকার বলেছে, তারা নিজেদের জলসীমায় কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি দেখেনি। সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা করছে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
পছন্দ করুন
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
গোস্বামী
0
দুঃখজনক
0
বাহ!
0